বিদ্যালয় জীবন রামধনুর মতো রঙিন। প্রতিদিনের কোন এক প্রহরে মনের গোচরে তার আনাগোনা। আমার বিদ্যালয় জীবনের ডাইরির একটা ছিন্ন পাতা----
ডাইরির পাতা থেকে
********
"কলেজ স্ট্রিটের দু'পাশে লোকে থৈ থৈ! যাকে বলে জনপ্লাবন। আমি বাসাবাড়ির জানালা দিয়ে দেখে বুঝলাম আজ সেই দিন। দৌড়ালাম। ফুলের দোকানে ফুল-মালা সবই প্রায় শেষের পথে। ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকায় আমি একটা মালা পেয়ে গেলাম মহান ব্যক্তির জন্য। কি জানি আমি কি ওঁর গলায় মালা দিতে পারব? হঠাৎ গাড়িটা আমার সামনে এসে দাঁড়াল। মালা দেওয়ার সুযোগ একেবারে নাগালের মধ্যে। যেই মালা দেব, আমার হাতটা ধরলেন সেই মহামানব--প্রসারিত কপাল, স্মিতহাস্য মুখ, দীর্ঘকায়। চেপে ধরলেন আমার হাত। বললেন- আরে,.......না? আমি অবাক! ক্ষণিকের দেখা। তাও ক-ত বছর আগে। আমার নামটাও মনে আছে! আমি ধন্য। আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মূহুর্ত। আজকের দিনে আমি প্রণাম জানাই....."
এ'কথা শুনে উঁচু শ্রেণির ছাত্রদের চাপা হাসিগুলো যখন বিস্ফোরণ ঘটাতে যাবে, সেই সময় হেডস্যারর স্নেহমিশ্রিত ধমক-"আহা,উনি অভিজ্ঞ জন।আজ শিক্ষক দিবস। উনি নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন। এত উল্লাসের নিশ্চয় কিছু নেই। "
পিনড্রপ সাইলেন্স।
আমাদের শিক্ষকরা প্রায় সবাই স্থানীয় ছিলেন। মনে হত, সবসময় স্যাররা আমাদের নজরে রাখছেন। একটা অদৃশ্য শৃঙ্খলে বাঁধা পড়তাম। এর গুরুত্ব এখন বুঝতে পারি। যাক এখন সে রামও নেই, অযোধ্যাও নেই।
"....স্ট্যান্ড স্ট্রেইট। "
শিক্ষাঙ্গন পুরোপুরি অন্যরকম জায়গা। আমাদের গুণাবলী বিকাশের শুরু তো এখান থেকেই। আমরা যত দূরেই যাই, স্কুলের সোনালি দিনগুলো মাঝে মাঝে স্মৃতিপটে রামধনুর বিভা ছড়িয়ে দেয়।
".........ডানদিকে ঘোর।"
আমাদের সময় তো টেলিভিশন বা স্মার্টফোন, এমনকি খবরের কাগজ এত সহজলোভ্য ছিল না। রিসোর্স ছিলেন মাস্টারমশাইরা।আমাদের বিদ্যালয়, সমাজজীবনের ধাপ তৈরি করে দিয়েছিল। এর মূল কারিগর ছিলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা। আজও শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর সময় কখন যেন তাঁদের শেখানো জিনিসগুলো কালো বোর্ডে সাদা রঙে ভেসে ওঠে। আমি আমার স্যারদের দেখতে পাই। এটাই বোধ হয় intellectual heritage।
"....... বামদিকে ঘোর। "
Once a master, always a master. মাস্টারমশাইরা শুধু বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ ছিলেন না । আমাদের সরলমতিতে স্যারদের চলাফেরা,কথাবার্তা, পোশাকপরিচ্ছদ বা আচরণ সময়ে অসময়ে জাল বুনতো। এখনো বোধহয় আমাদের অনেকে এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি।
"...লেফট্ রাইট.....রাইট লেফট...."
শ্রেণিকক্ষে আমাদের আনন্দের আধার ছিল কোন কোন স্যারের অতিনাটকীয়তা। আমরা অবাক হয়ে শুনতাম। কিছু যাচাই করার প্রয়োজন ছিল না। প্রতিদিনের ক্লাসে এ ছিল কমিক রিলিফ। তাই বা কম কি!
"...হল্ট..."
জীবনের এ পর্বে এসে, আমার স্মৃতি ক্ষণে ক্ষণে আগল ঠেলে চলে যায় ছাত্রবেলায়।স্মৃতির মহাকাশে সুমধুর ছাত্রবেলা আজও ধ্রুবতারার মত সত্য ও স্নিগ্ধ। স্যার,আর একবার আপনাদের ক্লাসে যদি ছাত্র হয়ে বসা যেত! যদি ফেরা যেত সেই দিনে...
To one who has been long in city pent
'Tis very sweet to look into the fair
And open face of heaven, --to breathe a prayer
Full in the smile of the blue firmament.
Who is more happy,................ .
-----*****-----
চিত্রাঙ্কানেঃ-অভিজ্ঞান ।
😄😄😄
উত্তরমুছুন