নিত্যদিনের সময় যাপনের মাঝে ঘটে অনেক ঘটনা। এইসব নিয়েই তো জীবনযাপন।এটা তারই একটা ছিন্ন পাতা। প্রচ্ছদ অঙ্কনেঃ-অভিজ্ঞান।

                ডাইরির পাতা থেকে  
                      *********

লকডাউন একটু শিথিল হতেই বাড়ির জন্যে মনটা কেমন কেমন করে উঠল। আমার পুত্র তো পারলেই যাত্রা শুরু করে। বাড়ি যাবার জন্য বউয়ের তাগাদা আছে। মাঝখানে আমার রাতের ঘুম গেল উড়ে। পিছনে কন্টেনমেন্ট জোন, সামনে বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা'র চিন্তা।এ সময় বাড়ি যাওয়া কি ঠিক? 
আমার মন বি.এড কলেজের জগন্নাথের মত অবস্থায়--
"কি করি,কি করি!"
আর ওদিক থেকে পন্টার  তার ভাইকে ফোন -
"ভাই চলে আয়। আমাদের খেলার জায়গা এক্কেবারে পরিষ্কার। খেলা দারুণ জমবে। "
আমার দাদাভায়ের গুরুগম্ভীর What's App-
"Come immediately without hesitation to give us relief from tension. "
গুরুত্ব বোঝা গেল। অতঃকিম।
 দোলাদাকে ফোন।
গাড়ি এলো এবং আমাদেরও পাড়ি। 
আমার পুত্র তো আহ্লাদে আটখানা।   খামারবাড়ি পরিষ্কার। বল নেওয়া হল কি না--তার এই চিন্তা। 
         যাক প্রায় ২ঘন্টা যাত্রা শেষে আমরা আমাদের প্রিয় জায়গায়। "কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা।" কিন্তু এ যে করোনাকাল! ১৪-দিন নিভৃতে মম কুঞ্জবনে। 
নিকুচি করেছে! 
সেই খামারখানি কে যেন নিকিয়ে গেছে। 
--কি ব্যাপার দাদাভাই,খামারবাড়ি পরিষ্কার,ঝকঝকে? 
--"১০০-দিন।"
দাদাভাই কম কথার মানুষ। বুঝলাম ব্যাপারটা। 
খুব ভালো। মানবিক। এ সময় মানুষের হাতে কাজ নেই, পয়সা নেই। এ ভাবেও তো কিছু করা যায়। 
কিন্তু তা বলে, আমাদের খামারবাড়ি পরিষ্কার? গ্রামের রাস্তার পাশের পুকুরগুলো রাস্তায় লোটাচ্ছে। পাড় বলে কিছু নেই। সরকারি নালাগুলোর তো অস্তিত্বের সঙ্কট।বর্ষা আসছে এ'কাজগুলো করলে সঠিক হতো কি না জিজ্ঞেস করতেই, কে যেন মনে হলো বলছে--
---বর্ষে বর্ষে দলে দলে
    আমরা আসি পালে পালে।
    সকলের তরে সকলে আমরা
    ওরে তোরা পাগলারা,সরে দাঁড়া। 
 ঠিক আছে। 
সব চুপচাপ। 
(আমারও)ঘরে বসে ভাত। 
আমাদের মহাপুরুষ কিন্তু খুব সহজে অর্থনীতিটা বলে গেছেনঃ
--"শাকের টাকা শাকে,আর মাছের টাকা মাছেই খরচা করতে হবে।"
দিন তো গেল,সন্ধ্যা হলো। ছেলে দুটো এখনো খেলছে!         
মারো ছক্কা। 

                ------------*******----------- 
                                     
                               

           
                
                       

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিদ্যালয় জীবন রামধনুর মতো রঙিন। প্রতিদিনের কোন এক প্রহরে মনের গোচরে তার আনাগোনা। আমার বিদ্যালয় জীবনের ডাইরির একটা ছিন্ন পাতা----

I share my childhood and adulthood experiences which may find link with the present in a different way.............